কার্টাগোনা প্রোটোকল হলো জাতিসংঘের জৈব নিরাপত্তা বিষয়ক একটি চুক্তি। এই প্রোটোকলটি ২০০০ সালের ২৯ জানুয়ারি কানাডার মন্ট্রিলে গৃহীত হয়েছিল এবং এটি ২০০৩ সালের ১১ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হয়েছে।
কার্টাগোনা প্রোটোকলের মূল উদ্দেশ্য হলো আধুনিক জৈব প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি করা বিভিন্ন প্রকার জিনগত পরিবর্তিত জীব (Genetically Modified Organisms বা GMOs) এবং এদের থেকে উদ্ভুত বিভিন্ন খাদ্য ও শস্যের নিরাপদ ব্যবহার নিশ্চিত করা। এই প্রোটোকলটি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের মাধ্যমে এক দেশ থেকে অন্য দেশে GMOs এর চলাচল নিয়ন্ত্রণ করে এবং এর ফলে পরিবেশ ও মানব স্বাস্থ্যের ওপর কোনো বিরূপ প্রভাব পড়লে তা মোকাবিলা করার জন্য বিভিন্ন নিয়মকানুন তৈরি করে।
কার্টাগোনা প্রোটোকলের মূল বিষয়গুলো হলো:
১. উন্নত তথ্যের আদান প্রদান: GMOs সম্পর্কে পর্যাপ্ত তথ্য এবং এর ঝুঁকি সম্পর্কে বিভিন্ন দেশের মধ্যে তথ্যের আদান প্রদান করা। ২. ঝুঁকি মূল্যায়ন: GMOs এর কারণে পরিবেশ বা মানুষের স্বাস্থ্যের ওপর কোনো ক্ষতিকর প্রভাব পড়তে পারে কিনা, তা বৈজ্ঞানিকভাবে মূল্যায়ন করা। ৩. সচেতনতা বৃদ্ধি: GMOs সম্পর্কে জনগণের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো এবং তাদের এই বিষয়ে অবগত করা। ৪. আইনগত কাঠামো: প্রতিটি দেশকে তাদের নিজ দেশের মধ্যে GMOs এর ব্যবহার এবং চলাচল নিয়ন্ত্রণ করার জন্য আইন তৈরি করতে বলা হয়েছে।
কার্টাগোনা প্রোটোকল জৈব নিরাপত্তা এবং পরিবেশ সুরক্ষার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি। এই প্রোটোকলটি বিভিন্ন দেশের সরকারকে GMOs এর ব্যবহার সম্পর্কে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে সাহায্য করে এবং এর মাধ্যমে পরিবেশ ও মানব স্বাস্থ্যকে সুরক্ষিত রাখতে সহায়তা করে।