কোন কঠিন পদার্থ বিশুদ্ধ নাকি অবিশুদ্ধ, তা নির্ণয় করার জন্য বেশ কিছু পদ্ধতি রয়েছে। এদের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি পদ্ধতি নিচে উল্লেখ করা হলো:
১. গলনাঙ্ক নির্ণয়:
বিশুদ্ধ কঠিন পদার্থের একটি নির্দিষ্ট গলনাঙ্ক থাকে। অর্থাৎ, একটি নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় পদার্থটি গলতে শুরু করে এবং পুরোপুরি গলে না যাওয়া পর্যন্ত তাপমাত্রা একই থাকে। অন্যদিকে, অবিশুদ্ধ কঠিন পদার্থের গলনাঙ্ক নির্দিষ্ট থাকে না। এটি একটি নির্দিষ্ট পরিসরের মধ্যে পরিবর্তিত হতে পারে। তাই, গলনাঙ্ক নির্ণয় করে কোনো কঠিন পদার্থ বিশুদ্ধ নাকি অবিশুদ্ধ, তা সহজেই বোঝা যায়।
২. স্ফুটনাঙ্ক নির্ণয়:
বিশুদ্ধ তরল পদার্থের মতো, বিশুদ্ধ কঠিন পদার্থেরও একটি নির্দিষ্ট স্ফুটনাঙ্ক থাকে। এই পদ্ধতিতে, কঠিন পদার্থকে প্রথমে গলানো হয় এবং তারপর সেই গলিত পদার্থকে উত্তপ্ত করে তার স্ফুটনাঙ্ক নির্ণয় করা হয়। বিশুদ্ধ পদার্থের স্ফুটনাঙ্ক নির্দিষ্ট থাকে, কিন্তু অবিশুদ্ধ পদার্থের স্ফুটনাঙ্ক পরিবর্তিত হতে পারে।
৩. বর্ণালী বিশ্লেষণ:
বর্ণালী বিশ্লেষণ একটি শক্তিশালী পদ্ধতি, যা কোনো পদার্থের বিশুদ্ধতা নির্ধারণ করতে ব্যবহৃত হয়। এই পদ্ধতিতে, পদার্থের আলো শোষণ বা নির্গমনের বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ করা হয়। বিশুদ্ধ পদার্থের বর্ণালী সাধারণত নির্দিষ্ট এবং তীক্ষ্ণ হয়, যেখানে অবিশুদ্ধ পদার্থের বর্ণালী কিছুটা অস্পষ্ট বা বিক্ষিপ্ত হতে পারে।
৪. ক্রোমাটোগ্রাফি:
ক্রোমাটোগ্রাফি একটি মিশ্রণ থেকে বিভিন্ন উপাদানকে আলাদা করার পদ্ধতি। এটি ব্যবহার করে কোনো কঠিন পদার্থে উপস্থিত বিভিন্ন উপাদান আলাদা করা যায় এবং তাদের পরিমাণ নির্ণয় করা যায়। যদি কোনো কঠিন পদার্থে একাধিক উপাদান উপস্থিত থাকে, তবে সেটি অবিশুদ্ধ পদার্থ হিসেবে গণ্য হয়।
৫. অন্যান্য পদ্ধতি:
এছাড়াও, আরও কিছু পদ্ধতি আছে যা দিয়ে কঠিন পদার্থের বিশুদ্ধতা পরীক্ষা করা যায়, যেমন – ঘনত্ব পরিমাপ, দ্রাব্যতা পরীক্ষা, এবং বিভিন্ন রাসায়নিক পরীক্ষা।
কোন পদ্ধতি ব্যবহার করা হবে, তা নির্ভর করে পদার্থের ধরনের উপর এবং কী ধরনের অবিশুদ্ধতা আছে তার উপর।